Breaking News

স্বাধীনতা দিবস রচনা

স্বাধীনতা দিবস রচনা

স্বাধীনতা দিবস রচনা

ভূমিকা :

প্রত্যেক জাতিরই এমন কতকগুলো গৌরবোজ্জ্বল জাতীয় দিবস রয়েছে, যেগুলোকে জাতি অত্যন্ত মর্যাদার সাথে পালন করে থাকে। বাঙালি জাতির সে রকম একটি গৌরবোজ্জ্বল দিবস স্বাধীনতা দিবস।

 

স্বাধীনতা দিবসের ইতিহাস :

১৯৪৭ সালে ভারতবর্ষ পাকিস্তান ও ভারত নামে দুভাগে বিভক্ত হয়ে স্বাধীনতা লাভ করে। পাকিস্তান সৃষ্টি বাঙালির জন্য কোনো সুফল বয়ে আনতে পারেনি। পশ্চিমা শাসকগোষ্ঠী প্রথমেই আঘাত হানে এ দেশের মানুষের মুখের ভাষার ওপর। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের প্রেরণাই মূলত বাঙালিকে স্বাধীনতাসংগ্রামে বিজয় এনে দেয় ।

১৯৫৪ সালের অভ্যুত্থান, ১৯৭০-এর সাধারণ নির্বাচন এসবই বাঙালির আন্দোলনের বিভিন্ন স্তর। ১৯৭০ সালের জাতীয় পরিষদের নির্বাচনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ একক সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন লাভ করে।

বঙ্গবন্ধুর হাতে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা হস্তান্তরের পরিবর্তে পাকিস্তান সরকার নানা রকম বাহানা ও ষড়যন্ত্র শুরু করে। এরপর ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ রাতের অন্ধকারে নিরস্ত্র বাঙালির ওপর সেনাবাহিনীকে লেলিয়ে দেওয়া হয়। এবং পাকিস্তানি সৈন্যদের হাতে গ্রেফতার হয় বঙ্গবন্ধু।

পাকিস্তানি সৈন্যদের হাতে গ্রেফতারের পূর্বেই মধ্যরাতের পর অর্থাত্ ২৬শে মার্চ প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ।

 

স্বাধীনতা দিবসের বর্ণনা :

২৬শে মার্চ বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস। ৯ মাসের রক্তয়ী যুদ্ধে, ত্রিশ লাখ শহিদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত হয় আমাদের স্বাধীনতা। ১৯৭২ সালের ২৬শে মার্চ তারিখে বাংলাদেশের প্রথম স্বাধীনতা দিবস। স্বাধীনতা দিবস উদ্যাপিত হয়। এরপর প্রতিবছর এ দিনটিকে জাতীয় দিবস হিসেবে যথাযোগ্য মর্যাদার সাথে পালন করা হয়।

 

জাতীয় চেতনায় স্বাধীনতা দিবস :

বাঙালির জাতীয় চেতনায় স্বাধীনতা দিবসের গুরুত্ব অপরিসীম। জাতি হিসেবে নিজেদেরকে স্বতন্ত্র ভাবতে শিখিয়েছে স্বাধীনতা দিবস। স্বাধীন জাতি হিসেবে বিশ্বের দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে শিখিয়েছে স্বাধীনতা দিবস।

 

উপসংহার :

প্রত্যেক জাতিরই থাকে স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা। আর এ আকাঙ্ক্ষাই বাঙালিকে তত্পর করেছিল শত শৃংখল ভেঙে স্বাধীনতার সূর্যকে ছিনিয়ে আনতে। এ স্বাধীনতা আমাদের গর্ব, আমাদের অহংকার।

 

আরও পড়ুন:

একুশের কবিতা

২১ শে ফেব্রুয়ারি নিয়ে উক্তি

No comments